
ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল বাংলাদেশের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী। বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে অলিম্পিক ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক, এশিয়ান কাপে একাধিকবার অংশগ্রহণ—ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। বিপরীতে বাংলাদেশের সাফল্যের তালিকায় রয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, সাফ গেমস ও মিয়ানমারের টুর্নামেন্টের শিরোপা।
দুই দেশের ফুটবলের সম্পর্কও নতুন নয়। একসময় মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মারদেকা কাপ ফুটবলে নিয়মিত মুখোমুখি হতো বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া। তবে সময়ের সঙ্গে দুই দলের শক্তির পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফিফা র্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া।
আজ ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে সেই শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দলে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা ফুটবলার যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ও। তার ওপর নিজেদের মাঠে সমর্থকদের বাড়তি সুবিধা থাকবে তাদের।
অন্যদিকে, এবারের আসরে এখন পর্যন্ত কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে দলটি। দুটি ম্যাচেই পারফরম্যান্স নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১১টি কর্নার পেয়েও গোলের দেখা না পাওয়ায় আক্রমণভাগের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর কোচ থমাস ডুলির কৌশলও সমালোচনার মুখে পড়ে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একাধিক সেটপিসের সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচগুলোর পর দলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করেছেন কোচিং স্টাফ। কিন্তু মাঠে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন খুব বেশি দেখা যায়নি।
তবে আগের দুই ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে আজ নতুন করে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। জাকার্তায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গ্যালারিতে খুব বেশি দর্শক দেখা যায়নি। কিন্তু স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে গ্যালারির চাপও বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
তারপরও ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের ফুটবলাররা। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট গেম প্ল্যান তৈরি করেছে দল। কোথায় প্রতিপক্ষ ভুল করতে পারে, সেসব জায়গা নিয়েও কাজ করেছেন কোচিং স্টাফ।
প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ফুটবলারদের মধ্যে। ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে খুব বেশি না থাকলেও সেই ইতিহাস বদলে নতুন অধ্যায় লেখার লক্ষ্য নিয়েই আজ মাঠে নামবে জামাল ভূঁইয়ার দল।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। এর আগে সাতবার মুখোমুখিতে বাংলাদেশের জয় একটি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইন্দোনেশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচে সেই পুরোনো স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা করে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।