
পবিত্র কুরআনের খেদমতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল সৌদি আরব। দেশটির মর্যাদাপূর্ণ ‘বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় এবার প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য আলাদা বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন ৪৬তম আসরে নারী হাফেজ ও ক্বারিরাও আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে পারবেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
১৯৭৯ সাল থেকে মক্কার পবিত্র মসজিদ আল-হারামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুরআনিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পর এবারই প্রথম নারী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলো।
সৌদি ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বের নারী ও পুরুষ— উভয়ের জন্যই কুরআনের আন্তর্জাতিক মঞ্চ আরও বিস্তৃত হলো।
মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ আল-শেখ এই সিদ্ধান্তের জন্য বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি পবিত্র কুরআনের প্রচার-প্রসারে সৌদি নেতৃত্বের আন্তরিকতার প্রতিফলন এবং নারীর সক্ষমতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
জানা গেছে, আগামী ১৯ আগস্ট এই প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে এবারের আসরকে সফলভাবে আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্বের শতাধিক দেশের হাফেজরা প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবার নারী বিভাগের অন্তর্ভুক্তির ফলে প্রতিযোগিতাটি আরও বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।