
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করে নিয়োগ-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডাও ঘটে।
এই বিষয়ে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো কাগজপত্র নিয়ে আসিনি। ওই প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগের লোকজন দ্বারা পরিচালিত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের লোকদেরই নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের ছেলেরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে ইউএনও খারাপ আচরণ করেন। ইউএনও জামায়াতের লোক। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমরা কোনো কাগজ নিয়ে আসিনি।”
অন্যদিকে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, “আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে মোট আটজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনওর কক্ষে বসেছিলাম। তখন কয়েকজন এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং আমাদের কাছ থেকে নিয়োগ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা থানায় এসেছি।”
হরিপুর ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠানের লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে নিরীক্ষকরা মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া শুরু করেন। ওই সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার সহযোগীরা সেখানে এসে মব তৈরি করেন এবং নিরীক্ষকদের কাছ থেকে নিয়োগ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, “একটি সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটলো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না।”