
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি প্রাথমিক চুক্তির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার ইতিবাচক খবরে তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) গ্রিনিচ মান সময় (GMT) ১০:৫৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২.০২ ডলার বা ২.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮১.১৫ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের একপর্যায়ে এটি ৮০.৮৯ ডলারেও নেমেছিল, যা গত ৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন দর।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিমাপক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’-এর দাম ২.২২ ডলার বা ২.৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন চলাকালীন WTI-এর দাম সর্বোচ্চ কমে ৭৮.২৭ ডলারে নেমেছিল, যা গত ১০ মার্চের পর সবচেয়ে কম।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়িত্ব আনার লক্ষ্যে গতকাল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে যায়। যার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও তেলের বাজারে এই বড় দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ায় বিশ্ববাজারে দীর্ঘদিনের সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগ কেটে গেছে। ফলে ক্রেতাদের চাপ কমায় আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতির দিকে থাকতে পারে।