
কিউবার রাষ্ট্রদূত কার্লোস দে সেসপেডেস দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে জলদস্যুতা করছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক আলজাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার মাধ্যমে কিউবার ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করছে। এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন আমেরিকার সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে।
রাষ্ট্রদূত দে সেসপেডেস আল জাজিরাকে বলেন, “বিপ্লবের ৬৭ বছরের ইতিহাসে কিউবা কখনো এত শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখোমুখি হয়নি। আমরা এক বিন্দু তেলও না পেলেও নিজেদের মনোবল হারাবো না। শান্তি চাওয়া সব দেশের কর্তব্য, তাদের রক্ষা করা।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কারণে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কিউবার তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ভেনেজুয়েলার তেল এখন কিউবার দিকে যাবে না। পাশাপাশি, আমেরিকান বাহিনী ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বিতর্কিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিউবার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ দেশটি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রাখে। তেলের এই প্রবাহে ব্যাঘাত কিউবার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে কিউবা মেক্সিকোসহ অন্যান্য উৎস থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলার তেলের অভাবে দেশটির ইতিমধ্যেই সংকটাক্রান্ত অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
রাষ্ট্রদূত দে সেসপেডেসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কিউবার স্বাধীনতা বা দৃঢ়সংকল্প ভেঙে দিতে পারবে না। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবী আদর্শের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “আমরা ভয় পাই না এবং আমাদের দেশপ্রীতি ও শান্তির অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত।”