
বাংলাদেশে অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর থেকে রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, এবার রিটার্নের মাধ্যমে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়েছে, যা গত বছরের প্রায় ১৭০ কোটি টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালেই আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার করদাতা ইতিমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, “গত দেড় বছরে আমরা ট্যারিফ বাড়াইনি। জনগণের স্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন আমদানিতে ডিউটি কমানো হয়েছে। কোনো অবস্থায় চিন্তা করিনি এগুলো কমালে এত হারে রাজস্ব কমে যাবে। আমরা বলেছি এটা জনস্বার্থে প্রয়োজন।”
ফলের আমদানিতে করের হার কমানোর বিষয়েও তিনি নিশ্চিত করেন। “দেড় বছরে ফলের ওপর কোনো ডিউটি বাড়াইনি। বরং আগে যেখানে ১০ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ছিল, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানিতে উল্লেখযোগ্যহারে ডিউটি কমানো হয়েছে।”
ডলারের মূল্য বৃদ্ধিকে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “ডলারের দাম নতুন করে সেট হয়েছে। বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ার বড় একটি কারণ হলো ডলারের দাম। দুই বছর আগে যেখানে ৮০-৮৫ টাকা ছিল, এখন তা প্রায় ১২৬-১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে যে কোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গেছে।”
সরকারের শুল্ক কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান, “শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দিকে সরকার এগোচ্ছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আর উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না।” তবে দেশের শিল্প সংরক্ষণের স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় কিছু গ্যাপ থাকলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর আমাদের রাজস্ব আদায় বেড়েছে।”
চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ রিটার্ন জমা পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ-এই দুই অংশ আলাদা করার কাজ চলছে। শিগগির কমিটির বৈঠক, গেজেট প্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্বাচনের আগে অগ্রগতি হবে।”