
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের করাচির গুল প্লাজা থেকে ৩০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা এ দুর্ঘটনাকে শহরের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত করেছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে।
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বুধবার এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় দুবাই ক্রোকারিজ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।”
এই নতুন উদ্ধার অভিযানের পর গুল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। আসাদ রাজা আরও জানান, এখনো ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার করাচির অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে বেসমেন্টে আগুন লাগলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।
১৯৮০ সালে নির্মিত পাঁচতলা এই শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। এখানে এক হাজার দুই শতাধিক দোকান রয়েছে, যার অধিকাংশই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, করাচির ইতিহাসে এর আগে এত বড় পরিসরের অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি।
তবে হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে গুল প্লাজার ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটিকেই দায়ী করছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, প্লাজাটিতে মোট ২৬টি গেইট থাকলেও চলাচলের জন্য মাত্র দুটি ব্যবহৃত হতো। বাকি গেইটগুলো সবসময় বন্ধ রাখা হতো এবং আগুন লাগার সময়ও সেগুলো খোলা হয়নি। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন। একই সঙ্গে মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোও অকার্যকর ছিল বলে জানান তিনি।
বুধবারের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা আরও বলেন, “প্রাথমিক আনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি যে আগুন থেকে বাঁচার জন্য দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পড়ে এটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও আছেন।”