
ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের নিউজফিডে স্ক্রল করতেই চোখে পড়ছে আশির দশকের অ্যাসিড-ওয়াশ ডেনিম জ্যাকেট, চোখের কোণে বোল্ড আইলাইনার আর মাথায় বাউন্সি কোঁকড়ানো চুল। কখনো আবার দেখা যাচ্ছে সত্তরের দশকের ক্লাব, পুরোনো গাড়ি কিংবা রেট্রো আবহে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো তরুণ-তরুণীর ছবি।
ভালো করে খেয়াল করলেই বোঝা যায়, এগুলো বর্তমান সময়ের মানুষেরই ছবি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে ছবিগুলোকে বদলে দেওয়া হয়েছে রেট্রো লুকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নস্টালজিয়া ফিল্টার’ নামে পরিচিত এই ট্রেন্ড এখন বেশ জনপ্রিয়। প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোনো দিনের স্মৃতির মেলবন্ধনে মেতে উঠেছেন নেটিজেনরা।
এই ট্রেন্ডে শুধু ব্যক্তিগত ছবি নয়, দম্পতিদের ছবিও জায়গা করে নিচ্ছে। আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকের জুটিদের আদলে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন অনেকে। বাবা-মায়ের পুরোনো অ্যালবামে দেখা সাদাকালো কিংবা হালকা কালচে-হলদে ছবির আবহে নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করছেন বর্তমান প্রজন্ম।
এআই প্রযুক্তির সাহায্যে মুখের অভিব্যক্তি ও চেহারার বৈশিষ্ট্য অনেকটাই অপরিবর্তিত রেখে মুহূর্তেই বদলে ফেলা যাচ্ছে পোশাক, চুলের ধরন, ব্যাকগ্রাউন্ড ও ছবির সামগ্রিক আবহ। ফলে বর্তমানের একটি ছবিই হয়ে উঠছে কয়েক দশক আগের স্মৃতির মতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যেই আগের প্রজন্মের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। আশির দশকের পপ কালচার, ভিন্টেজ ফ্যাশন, ক্যাসেট প্লেয়ার, পুরোনো গাড়ি কিংবা সেই সময়ের সাজ-পোশাক—সবকিছুতেই তৈরি হয় এক ধরনের নস্টালজিক আবহ।
বর্তমানের জেন-জি ও মিলেনিয়ালদের অনেকেই আশি বা নব্বইয়ের দশক সরাসরি দেখেননি। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই সময়ের পোশাক, পরিবেশ ও সংস্কৃতিকে নিজেদের ছবিতে ধারণ করার সুযোগ তাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।
অন্যদিকে, যারা ওই সময়ে বেড়ে উঠেছেন, তাদের কাছে এই ট্রেন্ড অনেকটা পুরোনো দিন ফিরে দেখার মতো। নিজের তরুণ বয়সের ফ্যাশন ও জীবনযাপনের আবহকে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিতে আবার দেখতে পাওয়াও তৈরি করছে আলাদা রোমাঞ্চ।
ফ্যাশন চক্রাকারে ফিরে আসে—এ কথা নতুন নয়। তবে এবার সেই প্রত্যাবর্তনের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল জগৎ। অ্যাসিড-ওয়াশ জিন্স, বোম্বার জ্যাকেট, বড় চশমা এবং আশির দশকের বিশেষ হেয়ারস্টাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরোনো সময়ের ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোও নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করে তুলছে এআই-নির্ভর এই ট্রেন্ড।
প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে মানুষের বিনোদনের ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেখানে জটিল কাজকে সহজ করে তুলছে, সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে এর অন্যতম আনন্দদায়ক ব্যবহার হয়ে উঠেছে ‘টাইম ট্রাভেল’ বা অতীতে ফিরে যাওয়ার এক ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা।
সময়কে সত্যিই পেছনে ফেরানো সম্ভব নয়। তবে এআইয়ের রেট্রো ফিল্টার যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অ্যানালগ যুগের সেই নস্টালজিক জগতে—যেখানে পুরোনো ফ্যাশন, ছবি আর স্মৃতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়।