
ফুটবল মাঠের সাফল্যের বাইরে এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের ওভিয়েদোতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াসের ২০২৬ সালের ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। মেসির এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছে তার সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা।
স্পেনের কাম্পোয়াম থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রিন্সেস লিওনরের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি। পুরস্কার প্রদানকারী প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মেসির দীর্ঘদিনের দাতব্য কার্যক্রমও এই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মেসিকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে বলেছে, তার অসাধারণ প্রতিভা, খেলাধুলার প্রতি অঙ্গীকার ও মানবিক কর্মকাণ্ড বিশ্ব ফুটবলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাঠের বাইরেও তার অবদান স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে বলে উল্লেখ করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
মেসির সঙ্গে নিজেদের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছে বার্সেলোনা। ক্লাবটির ভাষ্য, তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়জুড়ে ছিল বার্সেলোনা। এই সম্পর্ক ক্লাবটির ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকবে এবং মেসির সঙ্গে তাদের বন্ধন সব সময় গর্বের বিষয়।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন মেসি। এরপর ক্লাবটির মূল দলের হয়ে ১৭ মৌসুম খেলেন তিনি। এ সময়ে ৬৭২টি গোল করেন এবং জেতেন ৩৫টি ট্রফি। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর প্যারিস সেন্ট জার্মেই হয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩ জুন মেসিকে ক্রীড়া বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত ক্রীড়া সাফল্যের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ২০১২ সালে স্পেনের সাবেক ফুটবলার ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজও এই সম্মাননা পেয়েছিলেন।
মেসির এই অর্জনকে তার দীর্ঘ ফুটবলজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে বার্সেলোনা। ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য সাফল্যের পর এবার স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হাতে নিয়ে আবারও আলোচনায় এলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।