
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশ এখন সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আত্মবিশ্বাসী। লাল বলের ক্রিকেটে এমন সাফল্যের পর টাইগারদের আত্মবিশ্বাস যে বেড়েছে, সেটি স্পষ্ট করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শুক্রবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘এরকম জয় তো অবশ্যই আত্মবিশ্বাস দেবে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেখান থেকে ফেরত আসা খুব জরুরি। দুই দিনের অনুশীলনে সেখান থেকে ভালোভাবেই প্লেয়াররা ফিরে এসেছে। ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে।’
প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সতীর্থদের উদ্দেশে তার প্রত্যাশা, ‘উন্নতির জায়গা সবসময়ই আছে। আমার মনে হয়, ওই ম্যাচে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ক্যাচ মিস কেউই ইচ্ছা করে করে না, এটা পার্ট অব গেইম আমার মনে হয়। তবে যত কম হয় ততই ভালো। ওই ম্যাচে আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি। অবশ্যই ছোট ছোট উন্নতির জায়গা আছে, এগুলো নিয়ে আমরা আলাপ করেছি। আশা করি আমরা আরও একটা ভালো ম্যাচ খেলতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশের আরও বেশি টেস্ট খেলা প্রয়োজন বলেও মনে করেন শান্ত। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই (এখানে বেশি বেশি) খেলা উচিত। আমার মনে হয়, না খেললে আমাদের নিজেদেরও উন্নতি হবে না বা নিজেদেরকে সেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা কতটা সামর্থ্যবান বোঝাতে পারব না। গত ম্যাচ জিতে আমরা এই ইতিবাচক বার্তাটা দিতে পেরেছি। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের যে দলটা আছে, যেকোনো কন্ডিশনে খেলার জন্য সামর্থ্যবান। যে ম্যাচ জিতেছি সে ম্যাচে ভালো খেলেছি, এখন আসন্ন ম্যাচে কীভাবে ভালো করতে পারি এটাও জরুরি।’
প্রথম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন শান্ত। দর্শকদেরও মাঠে এসে দলকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘আমি সবসময় একটা জিনিস বিশ্বাস করি প্রত্যাশা সবসময় থাকা ভালো। দর্শকদের একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে, আমরা হারি বা জিতি সবসময় সাপোর্ট করে যায়, মাঠে আসে। এটাই আশা থাকবে। কালকের ম্যাচের খেলা দেখবেন। যাদের মাঠে আসার সুযোগ আছে আসবেন। আমরা চেষ্টা করব আমাদের সেরা খেলাটা খেলার।’
অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে বেশি দূর ভাবতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার লক্ষ্য ম্যাচের প্রতিটি দিন ও প্রতিটি সেশনে ভালো ক্রিকেট খেলা।
শান্ত বলেন, ‘এতদূরে চিন্তা করতে চাই না। আমরা প্রথম থেকে যে কথাটা বলে এসেছি, ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। এখানেও পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। ফলে জরুরি হচ্ছে একেক দিন একেক সেশন কত ভালো ক্রিকেট খেলছি, এটাই টার্গেট থাকবে। যদি প্রসেসটা ঠিক থাকে আমরা যদি সেশন বাই সেশন ভালো খেলতে পারি, ফল সেভাবেই আসবে। আগেই ফল নিয়ে চিন্তা করলে আমার মনে হয় অনেক চ্যালেঞ্জ এবং অনেক কঠিন হবে আমাদের জন্য। আমি বিশ্বাস করি ভালো ক্রিকেট খেলাটা জরুরি আমাদের জন্য।’