
বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুতে লিড পেয়েও ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। আর এই বিদায়ের নেপথ্যে থ্রি-লাইন্সদের অতি রক্ষণাত্মক রণকৌশলকেই দায়ী করছেন ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে স্বয়ং দলের অধিনায়ক। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ মিনিট ইংল্যান্ডের দখলে বল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ! এই একটি পরিসংখ্যানই থ্রি-লাইন্সদের অতি রক্ষণাত্মক মানসিকতার প্রমাণ দেয়।
আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলের এমন হৃদয়বিদারক হারের পর ইংলিশ ডাগআউটে থাকা জার্মান মাস্টারমাইন্ড টমাস টুখেলের রণকৌশল নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। তবে চারদিক থেকে সমালোচনার বাণ ধেয়ে এলেও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে মোটেও অনুতপ্ত নন ইংলিশ বস।
টুখেলের এমন ‘ডিফেন্সিভ’ মানসিকতা নিয়ে প্রকাশ্যেই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ম্যাচ শেষে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ার পর গণমাধ্যমের সামনে কেইন বলেন:
"দলের সবাই ভীষণ হতাশ। সবাই নিজেদের ঘাম-রক্ত ঝরিয়েছে। তার পরও চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হলো।"
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার পেছনে কোচের ছককেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কেইন আরও বলেন:
"এগিয়ে থাকার পরও আমরা কেবল বাঁচার চেষ্টা করলাম। এই ধরনের ম্যাচে এভাবে খেললে হয় না। গোল করার পর আরও আক্রমণাত্মক খেলা উচিত ছিল। কিন্তু এর বদলে আমরা গুটিয়ে গেলাম। রক্ষণে লোক বাড়ানো হলো। ওরা ঝড় তুলল। আমরা সামলাতে পারলাম না।"
অধিনায়ক কেইন সরাসরি কোচের নাম মুখে না আনলেও তাঁর ক্ষোভের তীর যে কার দিকে ছিল, তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ঝড়ে আর্জেন্টিনার কাছে ২ গোল খেয়ে বিদায় নিতে হয় ইংল্যান্ডকে।
তবে দলের অধিনায়ক ও সমালোচকদের এমন তীর্যক মন্তব্যের বিপরীতে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ডিফেন্সিভ কৌশলের প্রবক্তা টমাস টুখেল। নিজের পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন:
"আপনি হাজার কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হয়। আমার মনে হয়েছিল, এভাবে খেলাই ঠিক। তাই হারের দায় আমার। কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। এই মুহূর্তে কোনো আফসোস নেই। দল সর্বস্ব দিয়ে খেলেছে এবং আমরা জয়ের খুব, খুব কাছাকাছি ছিলাম।"
গোল পাওয়ার পর কেন আক্রমণ বাদ দিয়ে রক্ষণভাগে লোক বাড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যায় টুখেল আরও যোগ করেন:
"আমার মনে হচ্ছিল রক্ষণে ফাঁক তৈরি হচ্ছে। তাই পাঁচ ডিফেন্ডারে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা ক্রমাগত ক্রস করল। হাওয়ায় লড়াই জিতল, আমরা আর পারলাম না।"