
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। ২১ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যে অবদানের ভিত্তিতে ফিফা যে ‘সেরা উদীয়মান ফুটবলার’ পুরস্কার দেয়, এবার সেই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন স্পেনের দুই তারকা লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সি।
২০০৬ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কারের সর্বশেষ বিজয়ী ছিলেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।
চলতি আসরে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইয়ামাল ও কুবার্সি। দলের সাফল্যে তাদের ধারাবাহিক অবদানই দুজনকে এই পুরস্কারের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারদের কাতারে রেখেছে।
সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরাও। এবারের বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামার পাশাপাশি তিনি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে খেলার ক্ষেত্রে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়েও এই পুরস্কারের আলোচনায় রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে অবদান রাখায় তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালিস্ট নিকো ও'রিলিও নজর কেড়েছেন। তবে শেষ চার থেকেই ইংল্যান্ডের বিদায় হওয়ায় তাদের সম্ভাবনা কিছুটা কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মরক্কোর মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিও এবারের বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ফ্রান্সের ক্লাব ফুটবলে আগে থেকেই পরিচিত এই তরুণ সম্প্রতি লিগ ওয়ানে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ৫০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন। সেই পারফরম্যান্স তাকে উদীয়মান ফুটবলারের লড়াইয়েও জায়গা করে দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা এবং স্পেনকে ফাইনালে তোলার অবদান বিবেচনায় লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সিই অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন। শেষ পর্যন্ত ফিফার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কার হাতে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।