
উইসকনসিনের অ্যাপলটন ও মিলওয়াকির মাঠে বেড়ে ওঠা এক তরুণ ফুটবল প্রতিভা আজ খেলবেন নিজের জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। তবে তার গায়ে থাকবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জার্সি। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে আজ রাত ১০টায় লেভিস স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বসনিয়া। ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ ২১ বছর বয়সী উইঙ্গার এসমির বাজরাকতারেভিচ, যিনি ‘মিলওয়াকি মেসি’ নামেই বেশি পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বয়সভিত্তিক দলগুলোর হয়ে নজর কাড়ার পর ২০২৪ সালের শুরুতে দেশটির সিনিয়র দলের হয়েও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে একই বছরের সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন বাজরাকতারেভিচ। জন্মভূমির পরিবর্তে পূর্বপুরুষের দেশ বসনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার পথ বেছে নেন তিনি।
এরপর থেকেই বসনিয়ার জার্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই তরুণ ফুটবলার। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে ইতালির বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে বসনিয়াকে ইতিহাসের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাজরাকতারেভিচ বলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলা শুরু করেছিলাম, তবে জানতাম যখন মূল জাতীয় দলে খেলার সময় আসবে, তখন কোনো ভুল করা যাবে না। আমি সবসময় জানতাম আমার মন বসনিয়ার সাথেই আছে।"
ছোটখাটো গড়ন, দ্রুতগতির ড্রিবলিং এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে অনেকেই তার খেলার মধ্যে লিওনেল মেসির ছায়া খুঁজে পান। আর মিলওয়াকিতে বেড়ে ওঠার কারণেই সতীর্থদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মিলওয়াকি মেসি’ নামে।
বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে খেলা এই ফুটবলারের পরিবার বসনিয়ার যুদ্ধকালীন সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়। ১৯৯০-এর দশকের সংঘাতের পর তার পরিবার সুইজারল্যান্ড হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। সেখানেই জন্ম হয় এসমিরের।
নিজের শিকড় সম্পর্কে তিনি বলেন, "যুদ্ধের পর আমার পরিবার জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসে। দেশের জন্য লড়াই করাটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের।"
আমেরিকায় বেড়ে উঠলেও পারিবারিক পরিবেশে তিনি পরিচিত হয়েছেন বসনিয়ার সংস্কৃতি, খাবার এবং ফুটবলের সঙ্গে। জাতীয় দলে অভিষেক ম্যাচেই নিজের শৈশবের আদর্শ এডিন জেকোর গোলে অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় আসেন এই তরুণ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ছোটবেলায় জেকোর জার্সি পরেই মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
বসনিয়ার বর্তমান দলে থাকা ১৭ জন ফুটবলারের জন্মই দেশের বাইরে। তবে কোচ সের্গেই বারবারেজের মতে, খেলোয়াড়ের জন্মস্থান নয়, দেশের প্রতি তার আবেগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বারবারেজ বলেন, "আমার কাছে কেবল একটি প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ—সে বসনিয়ার হয়ে খেলতে চায় কি না। এই আবেগ কখনো অভিনয় করে দেখানো যায় না।"
দলের গোলরক্ষক ম্লাদেন জুকাসের ভাষায়, "আমাদের জন্ম আলাদা জায়গায় হলেও, আমাদের শিকড় এক এবং সেটাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে।"