ক্যারিয়ারের প্রায় সব বড় অর্জন নিজের ঝুলিতে ভরেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ব্যক্তিগত অসংখ্য পুরস্কার জয়ের পরও ৩৯তম জন্মদিনের প্রাক্কালে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সবচেয়ে বড় চাওয়া কোনো ট্রফি নয়, বরং তার বাবার সুস্থতা। পরিবারের অন্য সদস্যদের মঙ্গলও তার কাম্য, তবে এই জন্মদিনে মেসির প্রার্থনার কেন্দ্রে রয়েছেন তার বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো প্রত্যাশা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে নতুন করে কিছু চাওয়ার ভাষা তার নেই। ফুটবল জীবনে তিনি যা পেয়েছেন, তা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। বর্তমানে তার একমাত্র চাওয়া- নিজে, তার পরিবার এবং প্রিয়জনেরা যেন সুস্থ থাকেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল নিয়েও সন্তুষ্টির কথা জানান এই তারকা ফুটবলার। তিনি বলেন, বর্তমান দলটি দীর্ঘদিন ধরে সমর্থকদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিটি ম্যাচে প্রথম ম্যাচের মতোই লড়াই করছে। দলের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও মাঠের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করছেন ফুটবলের জাদুকর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাবা হোর্হে হোরাসিও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের এই সংকট মেসির জন্য মানসিকভাবে খুবই কষ্টের হলেও তিনি তা প্রকাশ্যে খুব বেশি আনেননি।
তবে জন্মদিনের প্রাক্কালে তার কথায় স্পষ্ট, এই সময় তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাবার স্বাস্থ্য। তাই তার প্রার্থনা, বাবার শরীর দ্রুত ভালো হোক এবং পরিবার আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলুক।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা এবং দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি সতর্ক অবস্থান নেন। তার ভাষ্য, আবারও বিশ্বকাপ চাওয়াটা হয়তো বাড়তি প্রত্যাশা হয়ে যাবে। সৃষ্টিকর্তা তাকে যা দিয়েছেন, সেটিই তার জন্য যথেষ্টের চেয়েও বেশি।
ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্য নিয়ে এখনই ভাবতে চান না বলে জানান মেসি। বরং ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রতিটি খেলায় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার দিকেই মনোযোগ রাখছেন তিনি। তবে জন্মদিনের এই সময়ে তার সবচেয়ে আন্তরিক প্রার্থনা একটাই: বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।