
লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবলের দুই মহাতারকার প্রতি ভক্তির পেছনে রাজনৈতিক মতাদর্শের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, মানুষের রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী এই দুই তারকার প্রতি পছন্দে পার্থক্য দেখা যায়।
‘রাজনীতির গণ্ডির বাইরে রাজনৈতিক পরিচয়: ২৬টি দেশে মেসি-রোনালদো পছন্দের ধরন’ শীর্ষক গবেষণাটি সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় বলা হয়, বামঘেঁষা বা প্রগতিশীল মতাদর্শের মানুষ তুলনামূলকভাবে লিওনেল মেসিকে বেশি পছন্দ করেন। অন্যদিকে ডানঘেঁষা বা রক্ষণশীল মতাদর্শের মানুষের মধ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জনপ্রিয়তা বেশি।
২৬টি দেশের মোট ১০ হাজার ৬৬১ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিশ্লেষণে রাজনৈতিক মতাদর্শ, কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং দেশের ফিফা র্যাঙ্কিংসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তারা তুলনামূলকভাবে মেসিকে বেশি পছন্দ করেন। বিপরীতে নিজেদের রক্ষণশীল হিসেবে চিহ্নিত করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রোনালদোর প্রতি ঝোঁক বেশি। গবেষকদের মতে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণের পরও মেসি ও রোনালদোর মধ্যে পছন্দ নির্ধারণে সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাসদাতা ছিল রাজনৈতিক অবস্থান।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনার মানুষ মেসির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। অন্যদিকে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বা বেশি আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে রোনালদোর জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে।
তবে গবেষকরা এ ফলাফল ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউয়ের ধাপে যায়নি এবং রাজনৈতিক অবস্থান ও পছন্দের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও তার প্রভাব সীমিত হতে পারে।
ফলে গবেষণাটি মেসি-রোনালদো বিতর্কে নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করলেও, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা ঠিক হবে না বলেও মনে করছেন গবেষকরা।
