
ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার অনন্য এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করে আলোচনায় এসেছেন সঞ্জয়। বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু গানই পরিবেশন করেননি, তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পরিচয়ও।
শনিবার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয়ের সঙ্গে পারফর্ম করেন বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি, ফরাসি হিপ-হপ শিল্পী ভেভেড্রিম, কানাডার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, আলিসিয়া কারা, জেসি রেয়েজ এবং ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা।
অনুষ্ঠানে নোরা ফাতেহি ও ভেভেড্রিমের সঙ্গে ফিফার অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন সঞ্জয়। গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই গানটির ভিউ কোটি ছাড়িয়ে যায়।
তবে সবার নজর কেড়েছে সঞ্জয়ের পোশাক। বিশেষভাবে তৈরি তার জ্যাকেটের ডান হাতার অংশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং জাতীয় পতাকার নকশা। পারফরম্যান্সের সময় বারবার সেই নকশাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে জন্মগ্রহণ করেন সঞ্জয়। শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। পরে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই সংগীতশিল্পী বাংলা সংগীতের উপাদানকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) থিম সং তৈরিতেও তিনি কাজ করেছেন। এছাড়া বলিউডের জনপ্রিয় শিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গেও কাজ করেছেন সঞ্জয়।
দেশের সংগীতাঙ্গনের অনেক পরিচিত শিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তার সংগীত প্রযোজনায় হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান এবং জেফার রহমানের গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত হাবিব, সঞ্জয় ও মুজার ‘একলা দুনিয়া’ এবং তাহসান, সঞ্জয় ও মুজার ‘ভুলে যাব’ গান দুটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। জেফার রহমানের সঙ্গে তার ‘আড়ালে হারালে’ গানটিও জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় তুলে ধরে সঞ্জয় এখন দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন। তার এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন এক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।