
প্রায় দুই দশক পর আবারও কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হবে ভারতে। এই আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দেশটি। তবে নতুন এই আয়োজনের পরিকল্পনার মাঝেই সামনে এসেছে পুরোনো এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের আর্থিক দায় এখনো পুরোপুরি শোধ করতে পারেনি দেশটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মে আলোচিত সেই আসরের আর্থিক ও আইনি জটিলতার রেশ এখনো কাটেনি। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ওই গেমসের বকেয়া বাবদ ২৮ দশমিক ০৫ কোটি রুপি পরিশোধ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
এদিকে ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে আহমেদাবাদ। একই শহরে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যে বিড করেছে দেশটি। পাশাপাশি ২০৩৮ সালের এশিয়ান গেমস আয়োজনের দৌড়েও নামতে চায় ভারত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একদিকে যেমন নতুন পরিকল্পনা এগোচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো দেনা মেটাতেও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সংস্থা এমটিএনএলকে ২৮ কোটির বেশি রুপি পরিশোধ করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ২০১০ সালের গেমস–সংক্রান্ত ২৯টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি মামলায় বিভিন্ন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জড়িত, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারও একটি পক্ষ। মামলাগুলো বিচারাধীন থাকায় মোট দায়ের পরিমাণ এখনো নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ১৮ মার্চ লোকসভায় উপস্থাপিত একটি সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অবশিষ্ট দেনা পরিশোধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ৫০ কোটি রুপি প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মামলা পরিচালনায় আইনজীবীদের পারিশ্রমিক হিসেবে ৬ দশমিক ৩৭ কোটি রুপি এবং সালিসি খাতে ৬ দশমিক ৬৩ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লি কমনওয়েলথ গেমস ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, অবকাঠামোগত ত্রুটি, নির্মাণ বিলম্ব এবং দুর্বল আবাসন ব্যবস্থার কারণে। ২০০৩ সালে যেখানে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯৭ কোটি রুপি, তা ২০১০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৫৩২ কোটি রুপিতে।
এ ছাড়া বিভিন্ন চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০১১ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইলেকট্রনিকস করপোরেশন অব ইন্ডিয়াকে ৩৪৬ কোটি রুপির এবং নুসলি সুইজারল্যান্ডকে ১২৮ কোটি রুপির চুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আয়োজক কমিটির প্রধান সুরেশ কালামাডি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং ২০১১ সালে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ১০ মাস কারাভোগ করেন। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারিতে মৃত্যুর আগে আদালত তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
সব মিলিয়ে, নতুন করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের স্বপ্ন দেখলেও অতীতের আর্থিক দায় এখনো ভারতের কাঁধে ভার হয়ে রয়ে গেছে।