
আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলেও ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অবস্থানের পর এবার বিষয়টি নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি।
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর অবশেষে শাহিন আফ্রিদিদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সবুজ সংকেত দেয় পাকিস্তান সরকার। তবে একই সঙ্গে গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
রোববার ১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং ভারত ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের বিষয়ে আইসিসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই এমন অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান বলে জানানো হয়।
এরপর পাল্টা বিবৃতি দেয় আইসিসি। সেখানে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের দেওয়া বক্তব্যটি তারা নজরে এনেছে, যেখানে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলকে।
আইসিসি আরও জানায়, তারা এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। সংস্থাটির মতে, ম্যাচ বয়কটের মতো অবস্থান একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
আইসিসির টুর্নামেন্টগুলো সততা, প্রতিযোগিতা, ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার চেতনা ও পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সতর্ক করে দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকারের ভূমিকার প্রতি সম্মান থাকলেও, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে নয় এবং পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের লাখো ক্রিকেটভক্তের কল্যাণের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইসিসি আশা প্রকাশ করে যে, পিসিবি দেশের ক্রিকেটের ওপর এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, কারণ এটি পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সুবিধাভোগী হলো পিসিবি নিজেই।
সংকট নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইসিসি জানায়, তাদের বর্তমান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন ও সম্পন্ন করা, যা পিসিবিসহ সব সদস্য দেশের দায়িত্ব। পাশাপাশি তারা প্রত্যাশা করছে, পিসিবি এমন একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে।