
সরকার ও ফ্যাসিবাদী শক্তি মিলে দেশে নতুন পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিভিন্ন নেতা সংসদ নির্বাচনে তাদের দলের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট বলে দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনেও এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে বিএনপি এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করছে না।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, আহত, পঙ্গুত্ববরণসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃশ্যমান বিচার এখনো হয়নি। কিছু রায় হয়েছে, কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আবার নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত রয়েছে—সরকারের এমন অভিযোগকে ভুয়া ও অসত্য বলে দাবি করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করা হোক।’
তাঁর অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্ট যে আপনারা বানিয়ে দিয়েছেন-এটা বুঝতে আমাদের আর দেরি নাই।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর দাবি, দেশে খুন, মাদক, ঘুষ, কালোবাজারি ও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ছয় থেকে সাত মাসে দলীয় কোন্দলের জেরে ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জন কর্মী নিজেদের দলের লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।