
রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে অযথা ক্ষতির মুখে না পড়েন, আবার সাধারণ মানুষের চলাচলেও যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে—এমন বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে উত্তেজনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে মিরপুরের হোপ মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষসহ উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম
শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সিটি করপোরেশনের কয়েকটি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রমে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও হামলার শিকার হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, মিরপুরের সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন এবং সেখানকার জনগণ ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। ফলে এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা হলে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা যেত।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ—দুই পক্ষের স্বার্থ দেখার আহ্বান
শফিকুর রহমানের মতে, সংঘাতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এতে একদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, অন্যদিকে পথচারীদের চলাচলের জায়গাও যেন স্বাভাবিক ও ব্যবহারযোগ্য থাকে—দুই বিষয়ই নিশ্চিত করতে হবে।
ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, একটি অসাধু ও চাঁদাবাজ চক্র মাসের পর মাস এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করে সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক এমনকি বার্ষিক ভিত্তিতেও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদার অর্থের চাপ শেষ পর্যন্ত ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও সব পক্ষের অংশগ্রহণের তাগিদ
শফিকুর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বিচ্ছিন্নভাবে না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এমন কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান তিনি।
তার বক্তব্য, এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে এবং তাকে আলোচনায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব ছিল। পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে আরও কার্যকর একটি সমাধানে পৌঁছানো যেত, কিন্তু সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সমস্যার প্রতিটি জায়গাতেই সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সমাধান নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক হওয়া প্রয়োজন; কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো সমাধান করা উচিত নয়।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।’