
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে—এমন অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ এই প্রতারণা ক্ষমা করবে না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ট্রাকস্ট্যান্ডে লংমার্চের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে, প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। জনগণ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। ১১ দল আপনাদের পাশে আছে, আপনারা কি ১১ দলের সঙ্গে আছেন? আমরা আপনাদের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।’
২০২৪ সালের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জবাসীর আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশের শহীদ যোদ্ধাদের দাবিগুলো এখনো পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী ২০২৪ সাল মনে পড়ে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন এই রাস্তায় মনে আছে। আপনাদের সঙ্গীরা লড়াই করেছিল। কিন্তু আপনাদের সঙ্গীদের-শহীদদের দাবি কি পূরণ হয়েছে? হয় নাই। সেই দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরবো, ইনশাআল্লাহ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের চুলায় গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ এবং বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য রাস্তায় নেমেছি। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জাব্বারসহ অনেকে।
এর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লংমার্চের বহর।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ডে। এরপর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল ও মীরসরাইয়ে সমাবেশ করার কথা রয়েছে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।