
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়লেও জনগণের শক্তি ও নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিল্পায়ন, কৃষির অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্প উন্নয়নে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সাংবিধানিক সংস্কারের প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের জন্য উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত হবে।