
বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে ‘জন্মের ঠিক নেই’—এমন কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক জনসভায় তাঁর দেওয়া এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে অনুতপ্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই জামায়াত নেতা।
ফেসবুক পোস্টে মাওলানা হাবিবুর রহমান নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে লেখেন, গতকাল জ্বালানী তেল-গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আমার বক্তব্যে সিলেটী ভাষার একটি শব্দ চয়ন মোটেই ঠিক হয় নাই।
নিজের ব্যবহৃত সেই আঞ্চলিক শব্দের কারণে দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ মনে কষ্ট পেয়েছেন উল্লেখ করে এই জামায়াত নেতা আরও লেখেন, এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
তবে জনসমক্ষে এই ক্ষমাপ্রার্থনার পরও জামায়াত নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ক্ষোভ ও অসন্তোষের অবসান ঘটছে না। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো তাঁর এই দুঃখ প্রকাশকে দেখলেও সিলেট অঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি এই শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
জামায়াত নেতার এই কড়া সমালোচনামূলক মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সিলেট জেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান সাহেব যে ভাষায় সরকারকে আক্রমণ করেছেন, এটা শুধু ন্যক্কারজনকই নয়; তাদের দলের নেতাদের পুরোনো মুখোশ খুলে দিয়েছে।’
এমরান আহমদ চৌধুরী তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘যদিও তিনি (হাবিবুর) এখন দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এই বক্তব্য থেকে তাদের ভেতরে কী পরিমাণ হিংসা এবং প্রতিহিংসা কাজ করছে, তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকার যদি বেজন্মা হয়, তবে তারাও বেজন্মা। ভাবতে অবাক লাগে একটি দলের জেলা আমির এই ধরনের বক্তব্য কীভাবে দিতে পারেন?’
জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণের কড়া সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, শুধু তিনি নন, ইদানীং তাদের প্রত্যেক নেতার মুখের ভাষা শুনলে গা শিউরে ওঠে। একজন তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত কামনা করেছেন এবং তাদের আমির সারাজীবন বেঁচে থাকার গ্যারান্টি দিয়েছেন।
জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে জামায়াতের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে নিজ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এমরান আহমদ বলেন, ‘তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্বের দুর্বলতা খুঁজে সেখান থেকে ফায়দা লুটের চেষ্টায় তারা লিপ্ত। প্রয়োজনে তাদেরকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বয়কট করুন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া (ভাইরাল) সেই সভার ভিডিও ফুটেজে মাওলানা হাবিবুর রহমানকে উচ্চকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘যার জন্মের ঠিক থাকে না, তাকে আমরা কী বলি, বলেন কী বলি, যার জন্মের ঠিক থাকে তাকে আমরা বলি ফুঙ্গা। সুতরাং এই সরকারের জন্মের ঠিক নাই। এই সরকার জনগণের ভোটে পাস করে নাই। এই সরকার পাস করেছে ইঞ্জিনিয়ারিং ভোটে-বলেন কথাটা ঠিক কি না।’