
পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময় প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন প্রদত্ত বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান।
নেতৃদ্বয় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ দেশের মানুষের উপর দীর্ঘদিন শোষণ-নির্যাতন চালিয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ইতিহাসের নৃশংস অধ্যায় সৃষ্টি করেছে, শিশু শিক্ষা ও গণস্বাক্ষরতায় পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে সেই পাকিস্তানকে শিক্ষাক্ষেত্রে আদর্শ বা অগ্রাধিকার হিসেবে উপস্থাপন করা জাতির আত্মমর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী।
তারা বলেন, জ্ঞান ও শিক্ষা বিনিময় অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হওয়া উচিত, তবে তা হতে হবে উন্নত, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশগুলোর সঙ্গে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে একটি পশ্চাৎমুখী ও দেউলিয়া দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা দেশের প্রগতিশীল শিক্ষার্থী সমাজ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে হতাশ করেছে। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, দেশে সক্রিয় সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিবর্তে পাকিস্তানমুখী চিন্তা জাতিকে বিভ্রান্ত করবে।
বাংলাদেশ জাসদ মনে করে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারকে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত অবস্থান পরিহার করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান নেতৃদ্বয়।