
বিএনপি মনোনীত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জয় অর্জন করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
নেত্রকোনা ৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তিন উপজেলার মধ্যে গঠিত এই আসনে মোট ১৫০টি কেন্দ্র ছিল। চূড়ান্ত ফলাফলে বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট সংগ্রহ করেছেন। বিশেষ দিক হলো, বাবর প্রতিটি ১৫০টি কেন্দ্রে একইভাবে জয়ী হয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে তার প্রাধান্য থামেনি। এই বিস্তৃত ভোট ব্যবধান এবং সব কেন্দ্রে আধিপত্য তার জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রা প্রমাণ করেছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার বা কুমিল্লা ৪ আসন থেকেও একইভাবে নজির গড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে এই আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের সবটিতেই তিনি জয়ী হয়েছেন। মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫২৬। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিমুদ্দিন, ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০:৩০ মিনিটে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসনাতকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
ফলাফলের ঘোষণার পর এলাকাজুড়ে সরগরম আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি সংসদীয় আসনের সব কেন্দ্রে একই প্রার্থীর জয় সাধারণত দেখা যায় না, যা ভোট বিশ্লেষকদেরও বিস্মিত করেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের পরিচিতি, শক্তিশালী এলাকার সংগঠন এবং কার্যকর প্রচারাভিযান এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। কেউ কেউ এটিও বলছেন, ভোটারদের একতরফা সমর্থনই এই অসাধারণ ফলাফল তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, লুৎফুজ্জামান বাবর ও হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্বাচনী ইতিহাসে নিজেদের নাম এক অনন্য রেকর্ডে লিখেছেন। এই রেকর্ড রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ উভয়েরই আলোচনার কেন্দ্রে উঠেছে।