
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও দৃঢ় অবস্থান জানালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে দল বদ্ধপরিকর বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় জনগণের ভালোবাসা। বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি কখনো জনপ্রিয়তা হারায়নি। সবসময় জনগণের রাজনীতি করেছে। জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন হবে।’
জামায়াতের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে জামায়াতের উত্থান হয়েছে। যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, তাকে যখন আটকে দেওয়া হয়, তার কণ্ঠরোধ করা হয়, তখন অন্য উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে এবং সেটাই এই দেশে ঘটেছে। যেখানে আজকে যেটুকু উত্থান হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর, এর কারণ আওয়ামী লীগ। তাদের দমন-নিপীড়নমূলক শাসন, বিরোধী দলকে ফাংশন করতে না দেওয়া এবং নির্বাচন করতে না দেওয়ার ফলে আজকে এটা হয়েছে।’
বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে। জনগণ তাদের আবারো সুষ্ঠু, সৎ এবং কল্যাণমূলক রাজনীতির মধ্যে দিয়ে সমস্ত অপপ্রবণতাগুলোকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।’
দলীয় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবসময় দেওয়া কথায় অটল থাকে। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে যারা রাস্তায় যুগপৎ আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি এবং তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা সরকার গঠন করব।’
সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির দেওয়া ৩১ দফাকে বিস্তৃত করবো। এরইমধ্যে সংস্কার কমিশনে আমরা অনেকগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, এগুলোই আমাদের সামনে আসবে। আমরা জুলাই সনদে যা যা সই করেছি, সেগুলো আমরা সবগুলো পূরণ করব।’
শেষে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা সবাই যেমন আনন্দে রয়েছি, তেমনি আমাদের দুঃখও-বেদনা রয়েছে। দীর্ঘকালের আমাদের নেত্রী, যিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রের জন্য, অধিকারের জন্যে, তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন; এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার।’