
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, “অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন করে, তাদের অবস্থা এখন এমন হয়ে গেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছে, যেটা তাদের মুখে মানায় না।”
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্তানের হল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “জনগণ জানে চুলার মুখে দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না। চুলার মুখ দিয়ে ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।”
মির্জা আব্বাস আরও সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি ভাবেন, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে একটু কথা বললেই প্রচারণায় থাকা যায়; এর জন্য বহু রাস্তা আছে। এজন্য আপনারা দান-খয়রাত করেন এবং ভালোভাবে কথা বলেন। কিন্তু এভাবে গালিগালাজ করে, অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজের ভবিষ্যৎ জাহির করবেন না।”
নিজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে থেকে যেগুলো বলা হচ্ছে, সেটা এদেশের মানুষ বিশ্বাস করবে না।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, আমি একটু স্পষ্ট করতে চাই যদি আপনাদের বুকের পাটা থেকে থাকে, তাহলে আসেন বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে শালিস বসান। কোনো অসুবিধা নেই, আমার বুকে সাহস আছে। আমি চুরিচামারি করে বড় হইনি। গায়ে খেটে বড় হয়েছি এবং নিজ হাতে কাজ করেছি। দয়া করে একজন মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করবেন না। বরং নিজে কী করবেন, কী করেছেন, সেটা বলেন।”
তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সকাল-সন্ধ্যা জামায়াতে ইসলামীর একটা জুনিয়র গ্রুপ বিএনপি সম্পর্কে অসংখ্য নোংরা কথাবার্তা বলছে। জামায়াতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবর্গ আমাদের দেশের চাকরিজীবী মেয়েদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছে। তাদের মুখের কথাবার্তা লাগামহীন হয়ে গেছে।”
মির্জা আব্বাস ভোটার এবং পোলিং এজেন্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দেবেন। যারা পোলিং এজেন্ট হবেন, তারা রেজাল্ট শিট নিয়ে তবেই রুম থেকে বের হবেন। প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছাড়া ঐ এলাকা থেকে কোনো রিটার্নিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট যাতে বের হতে না পারে। যদি বলা হয় ভোট অফিসে গিয়ে গণনা করা হবে, এটা কোনোভাবেই অ্যালাউ করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, জনগণ ভোটের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করতে রাজি আছে। আবার শুনছি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে। নব্য প্রার্থীদের কথাবার্তায় বুঝতে পারছি, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার চান্স রয়েছে।”
সভা শেষ করে মির্জা আব্বাস গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেটে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। তিনি বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজের পরও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা জানিয়েছেন।