
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে পরিকল্পিত সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলটির দাবি, তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, এ ঘটনায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। শনিবার ৩১ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডিটি দায়ের করা হয়।
দলের কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিমের বরাতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সমন্বিত কৌশল ব্যবহার করে হামলাকারীরা অল্প সময়ের জন্য জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাইবার টিম স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর ফলে দলের অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যেই একটি অননুমোদিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে আমীরে জামায়াতের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয় বলে দাবি করেছে দলটি।
ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শনিবার ৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি করা এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) হ্যান্ডেলসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “অত্যন্ত সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করে হামলাকারীরা সাময়িকভাবে আমীরে জামায়াতের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়। ফলে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।”
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে আমীরে জামায়াতের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, উক্ত পোস্ট/কনটেন্ট আমীরে জামায়াতের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আমি এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি সাধারণ জনগণ, সাংবাদিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি, ভুয়া খবর, জাল উদ্ধৃতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি করা এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়। এগুলো গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সবার প্রতি অনুরোধ, শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন- যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার করবেন না এবং সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখলে তা রিপোর্ট করুন।”
কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগে আস্থার জায়গা অটুট রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।