
“আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারাই আমাদের শক্তি, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনার বুকে আমরা একটি ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনার দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা একটি বেকার-মুক্ত এবং দায়িত্বশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। কারো দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাংলাদেশের কোনো মানুষ বসবাস করবে তা আমরা চাই না।”
এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা সদরের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত কখনও দেশবাসীকে ত্যাগ করেনি। তিনি বলেন, “দেশবাসীকে ফেলে চরম দুঃখ বিপদের সময়ও কোথাও আমরা যাইনি। আগামীতে প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের ছেড়ে আমরা যাবো না। জীবনে-মরণে একসঙ্গে লড়াই করবো, ইনশা আল্লাহ।”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি, আমি সাক্ষী দিতে এসেছি। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে গরিব করে রাখা হয়েছে। এই অঞ্চল আমাদের কলিজার অংশ। অথচ ইচ্ছে করেই একে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, অবহেলা করা হয়েছে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা উত্তরাঞ্চলে বেকার যুবক দেখতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি মানুষের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে। প্রতিটি নাগরিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
স্বাস্থ্য খাতেও পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আল্লাহ-তায়ালা দায়িত্ব দিলে আমরা প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলবো। পঞ্চগড়েও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। যারা ভেবেছেন এত টাকা কই পাবো; ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে।”
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে আরও উঠে আসে শিল্পায়নের পরিকল্পনা। তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গকে আমরা শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো আবার চালু করতে চাই। আগামী দিনে আপনাদের সঙ্গে নিয়েই দায় ও দয়ার বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা যুবসমাজের হাত শক্তিশালী করবো, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি যোগ করেন, “১২ তারিখে বিজয় ছিনিয়ে আনা পর্যন্ত আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। আর কোনো পুরোনো দুর্বৃত্ত যেন নতুন কোনো পোশাকে ফিরে আসতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা।