
এক দিনের মধ্যেই টানা সাত জেলার নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের প্রচার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ এই সফরে সিলেট থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে জনসমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি এবং দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পাশাপাশি আসন সমঝোতায় থাকা প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দিয়ে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজার, সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় হবিগঞ্জ এবং রাত সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পর্যায়ক্রমে সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
এরপর রাত সোয়া ১২টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। সেখান থেকে রাত ৩টার দিকে তিনি নরসিংদীর পৌর পার্কসংলগ্ন মাঠে পৌঁছান। ওই সমাবেশ শেষ করে ভোররাত ৪টা ১৬ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের একটি মাঠে প্রথম দিনের শেষ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। সমাবেশ শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান।
সমাবেশগুলোতে তারেক রহমান ধানের শীষের পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় থাকা প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সারাদেশে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি বেকারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ভোররাত পর্যন্ত চলা শেষ কয়েকটি সমাবেশে নেতাকর্মীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাতে হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনে সাতটি সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বাসায় ফিরেছেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গাউসিয়ায় শেষ সমাবেশ শেষে ভোররাতের কিছু সময় পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
দলটির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই টানা সফরের প্রতিটি জনসমাবেশেই বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে বিএনপি জানিয়েছে, শুক্রবার তারেক রহমান নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭-এর ভাসানটেকের বিআরবি ময়দানে একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।