.webp)
সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য লর্ড হোসেন ও ইমরান হোসেনের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের (এপিপিজি) সদস্য হিসেবে দুই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা বৈঠকে যোগ দেন।
আলোচনায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে সরকারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। পাশাপাশি সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যরা। দেশটির জন্য শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়—এমন ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করেন তারা।
আলোচনায় উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকটও। এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন উভয় পক্ষ।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসম্মতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। তারা মনে করেন, প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক পরিবেশে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার আবারও ব্যক্ত করে।