
রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের পক্ষে অনির্দিষ্টকাল বহন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই সংকট বাংলাদেশের তৈরি নয়; সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দ্য ফার্স্ট কনভারসেশন: আ ওয়ার্ল্ড রিরাইটেন—পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন দ্য এজ অব আনসার্টেনটি’ শীর্ষক অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট ও এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী ও জটিল পরিস্থিতি নিরসনে আরাকান আর্মি, মিয়ানমার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে বসবাসরত তরুণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করা এবং নতুন করে শরণার্থী আসতে থাকায় মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তেও নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফলে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সংকট নিরসনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টিতে চীন কীভাবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, পশ্চিমা বিশ্ব, ইসলামিক দেশগুলোসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬ সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে শতাধিক দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।