
বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার করতে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ইউএনএফপির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথেরিন ব্রেন ক্যামকংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারীশিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহিংসতা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি), ডিএনএ ল্যাব, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), শিশু অধিকার, শিশুশ্রম নিরসন এবং অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী ইউএনএফপিএকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত অত্যাধুনিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনএফপির প্রতিনিধিকে অবহিত করেন মন্ত্রী। ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম দ্রুত ও সফলভাবে সম্প্রসারণে কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানান ক্যাথেরিন ব্রেন ক্যামকং।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ইউএনএফপির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ও এ উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির বিষয়েও মন্ত্রীকে অবহিত করেন ক্যাথেরিন ব্রেন ক্যামকং। জবাবে মন্ত্রী দিবসটির কর্মসূচি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও হস্তশিল্প পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে যুগোপযোগী বিপণন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা চান মন্ত্রী।