
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে সময়সীমা বা টাইমলাইনের কথা জানিয়েছে, সেটিকে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন কমিশনকে এগোতে হবে।
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে কোনো মতপার্থক্য রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিকে সংঘাত বা মতবিরোধ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দায়িত্ব ও এখতিয়ার রয়েছে।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে স্থানীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে কি না—এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে—এভাবে আমি বলতে চাই না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও আপনারা ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সীমা সরকার মেনে নেবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে, এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে তারিখ বা সময়সীমার কথা বলেছে, ঠিক সেই সময়েই নির্বাচন হবে—এমন নয়। আবার হবে না, সেটিও বলা হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আছে কি না, তা বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটিকে এখনই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না; নির্বাচন করছেন ব্যক্তিরা। ফলে কে কোন দল করেন, সেটি নির্বাচনে সরাসরি কোনো ইস্যু নয়।
নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না—এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে কোনো কোনো দল সম্ভাব্য প্রার্থীও ঘোষণা করতে শুরু করেছে। ফলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন মাত্রার প্রতিযোগিতা তৈরির সুযোগ রয়েছে। আগে একই দলের একাধিক প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতেন। দলীয় প্রতীক চালুর পর সেই প্রতিযোগিতার জায়গায় সংকট তৈরি হয়েছিল। এবার আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি।