
বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ঢাকা। একই সঙ্গে দেশের বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িংসহ প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার ব্যাপারেও সরকারের নীতিগত অবস্থান ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
আ.লীগ নেতাদের সভার অনুমতি না দেওয়াকে ইতিবাচক দেখছে ঢাকা
সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে একটি সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়নি ভারত সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো টেরোরিস্টকে ঢাকায় জায়গা দেবো না, সেরকম আমরাও চাই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো টেরোরিস্ট দিল্লিতে বা ভারতের কোথাও জায়গা পাবে না।’
ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আশা করি এটা তারা কন্টিনিউ করবে। এটা স্বাভাবিকভাবে একটা গুডউইল তৈরির পথ করে দেয়। দেখা যাক, যেহেতু এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ।’
তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। দুই দেশের পারস্পরিক সম্মান ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দুই প্রধানমন্ত্রীর সময় মিলে গেলে আমরা একটা তারিখ নির্ধারণ করব।’
তিনি বলেন, ‘আগে কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল। সেসময় একটা ঘটনা ঘটে ৫ আগস্ট (শেখ হাসিনার বক্তব্য), যেটা বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্টকে আঘাত করে। আমরা বিষয়টি তাদের জানাই। তারপর এখন আবার আলাপ চলছে। দেখি একটা পর্যায়ে যখন টাইমিংটা ঠিক হবে, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। আমরা এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করিনি।’
বোয়িং কেনার বিষয়ে সরকারের নীতিগত চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো এবং চীনের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক। বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে।’
বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরও উড়োজাহাজ কিনব। বাংলাদেশকে আমরা এশিয়ার একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে তৈরি করতে চাচ্ছি। আমরা একটি গেটওয়ে হওয়ায় আমাদের আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। আর এজন্য আমাদের বড় বহর প্রয়োজন। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস যেভাবে বড় হয়েছে, দেখুন তাদের প্রায় দেড়শটির বেশি উড়োজাহাজের বহর আছে।’
প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং ও এয়ারবাস কেনার কথা
বাংলাদেশের উড়োজাহাজের বহর প্রয়োজনের তুলনায় বড় নয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের সংখ্যা হয়ত তত বেশি নয়, কিন্তু অবশ্যই আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং কিনতে হবে, এয়ারবাস কিনতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে কোনো চাপ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা হলো আমরা উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি নীতিগত চুক্তিতে এসেছি। আমাদের কোনো চাপ নেই। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় আমরা রুটগুলোতে সেবা দিতে পারব না, নতুন রুট খুলতে পারব না।’
বিমান না কিনলে লোকসানের আশঙ্কা
বিমান বহর বাড়ানো এবং নতুন রুটে সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি তা না করি, যদি আমরা উড়োজাহাজ না কিনি এবং যদি আমরা আমাদের রুটের নেটওয়ার্ক প্রসারিত না করি, তাহলে আমাদের লোকসান হবে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনার সামর্থ্য থাকলে, আমরা কিনতে থাকব এবং কিনব।’