
বহুল প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ অবশেষে চালু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আবেদন ও বদলির ক্ষেত্রে ১৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাউশির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে বদলির আবেদন শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত তা চলবে।
বদলি নীতিমালা অনুযায়ী আগ্রহী শিক্ষকদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত সব শিক্ষক এ বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টররাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জারি করা ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৩ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বদলি হওয়া শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ পাবেন না।
১. সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠান বাছাই:
একজন শিক্ষক পছন্দের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের পর কর্তৃপক্ষ বদলির ভিত্তিতে পদায়নের আদেশ জারি করবে।
২. নিজ জেলায় বদলি:
আবেদনকারীকে চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় থাকা শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
৩. স্বামী বা স্ত্রীর জেলা/কর্মস্থল:
শিক্ষক স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা কর্মস্থলের জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
৪. চাকরির মেয়াদ:
প্রথমবার চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করার যোগ্য হবেন।
৫. নতুন কর্মস্থলে দুই বছর:
বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর অন্তত দুই বছর সেখানে চাকরি করার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।
৬. ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য:
অসম্পূর্ণ কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে করা আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
৭. বদলি অধিকার নয়:
আবেদন করলেই বদলি পাওয়াকে কোনো শিক্ষক অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারবেন না।
৮. চলমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:
কোনো শিক্ষকের ক্ষেত্রে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে না। তাই আবেদন করার আগে শিক্ষকদের নিজেদের তথ্য ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বদলি কার্যক্রম নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নীতিমালা অনুসারে কর্তৃপক্ষ পদায়নের আদেশ জারি করবে।