
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা জানিয়েছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।
গণমাধ্যমকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, যে বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠি, দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে-নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে পারবে। যেখানে আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে। যেখানে আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ তাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশীরা একটি আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।’
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রথমেই আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীনের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই দেশবাসীর কাছে যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে আমি পাশে ছিলাম, সুখে-দুখে তাদের কাছে ছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি মনে করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক কিছু মিস করব। যা স্মরণ করলে আমি আবেগকে ধরে রাখতে পারি না’
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দোয়া করি সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন। কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সকলে সরকারকে সহযোগিতা করুন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এ দিনে আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, আমার মন কাঁদে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা মনে আসলেই। মহীয়সী এই নারী নেত্রী, প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার আমি সান্নিধ্য পেয়েছি, স্নেহ পেয়েছি। আজকে আমার ক্ষণে ক্ষণে তার কথা স্মরণে আসে। আমার আবেগ কেঁপে ওঠে।’
ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার একপর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভাতেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করতে নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছেন। মির্জা ফখরুলও তাদের সঙ্গে দেখা করছেন এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন।
এর আগে বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। ফলে সংসদীয় দলের ওই সভাই তার শেষ অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে।