
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহণ নির্বিঘ্ন রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি গোপন নৌ-করিডোর চালু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিচালিত এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ চ্যানেল ব্যবহার করে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। সূত্রের দাবি, বর্তমানে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের দৈনিক সরবরাহের প্রায় অর্ধেক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন উন্মুক্ত। প্রচুর জাহাজ চলাচল করছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দামও আবার কমতে শুরু করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩৫০ ডলারে ওঠার আশঙ্কা করা হলেও বর্তমানে তা ৮৪ থেকে ৮৫ ডলারে নেমে এসেছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর ভবিষ্যতে নির্ভরতা কমতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে এবং রেকর্ড সংখ্যক পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা প্রচুর পরিমাণে তেল বাইরে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছি।’
তবে সাম্প্রতিক নৌ-চলাচলের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের গতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। হামলার আশঙ্কায় অনেক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি, আর গত ১০ দিনের দৈনিক গড় ছিল ১১টি।
কেপলার জানিয়েছে, নজরদারি এড়াতে কিছু তেলবাহী ট্যাংকার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে প্রণালি পার হয়ে থাকতে পারে। ফলে সেসব জাহাজের তথ্য হিসাবের মধ্যে আসেনি।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।