
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, দেশ গঠনের কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় সরকার।
রোববার বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের আগে আলেম-ওলামাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমি হুজুরকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি আসব। আল্লাহর রহমতে আমরা সরকার গঠন করেছি। আজ আল্লাহ আমাকে সেই রহমত দিয়েছেন যে আমি এসে আমার প্রিয় হুজুরের কাছে যেতে পেরেছি।”
তিনি বলেন, গত নির্বাচনের সময় আলেম-ওলামাদের সহযোগিতায় দেশকে একটি বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের সব সমস্যা এখনো শেষ হয়নি।
বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে বর্তমানে দেশের মানুষকে বিভিন্ন সমস্যার খেসারত দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ করার কারণে বর্তমানে দেশের মানুষকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে। গ্যাসের চলমান সংকট আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে অনেকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ ও সন্তানরা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং শান্তিতে বসবাস করবে।”
তিনি বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করা হয়েছে, নির্বাচনের পরও দেশ গঠনের কাজে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আলেম-ওলামাদের সরকারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সরাসরিভাবে সরকারে নেই, কিন্তু সরকারের সহযোগী হিসেবে আছেন।” দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়িতে পৌঁছান। হেলিকপ্টারটি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণের পর সেখানে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং তিনিও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।