
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে পারেন বলে বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরের দিকে রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন।
সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সরকারের অভ্যন্তরেও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের উচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একই বছরের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ওপেন-হার্ট সার্জারি করান। পরে যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ধরা পড়লে জরুরিভিত্তিতে সফল এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে গেলে সৃষ্ট সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেন এবং নতুন সরকারের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।