
নতুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কমিশনের স্বচ্ছ ও পেশাদার নেতৃত্বের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এর ফলে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য জানতে চান, গত সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে কারসাজি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি ও অনিয়মের ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো)-এর শেয়ার লেনদেনে কারসাজির ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪২৮ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিএসইসির অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নে মো. কামরুল হাসান জানতে চান, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য বা অসৎ ব্যক্তিদের বিএসইসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে যে অভিযোগ রয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগ এড়ানো হবে কি না এবং আগের কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও জানান, বিএসইসি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং আরও একজন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবাই পেশাদার এবং আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে সরকারের কোনো সংশয় নেই।
তিনি দাবি করেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আস্থাভিত্তিক একটি পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ইতিবাচক ফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।