
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’-এর আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত ১৫ সদস্যের এই পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শাখা-৬ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক পদাধিকারবলে পর্ষদের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পদাধিকারবলে পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকবেন আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি।
শিক্ষা ও গবেষণা ক্যাটাগরিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ এবং গবেষক ডা. জাহেদ উর রহমান।
এ ছাড়া কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশফিকুর রহমান জোহান। জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন মাসুদ রানা। গুমের শিকার পরিবারের প্রতিনিধির তালিকায় রাখা হয়েছে ব্যারিস্টার মো. আবরার ইলিয়াস, আবু সাঈদ চৌধুরী হিমু ও সানজিদা ইসলাম তুলিকে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনের ধারা ৮(১)-এর চ, ছ, জ, ঝ ও ঞ অনুযায়ী মনোনীত সদস্যরা মনোনয়নের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সর্বোচ্চ আরও এক মেয়াদের জন্য পুনর্মনোনয়নের সুযোগ পাবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, পর্ষদের সভাপতি বা কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধনের পর এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দুর্লভ দলিল, সংরক্ষিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, শহীদ ও আহতদের ব্যক্তিগত স্মারক, পোশাক, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডসহ নানা নিদর্শন প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে আন্দোলনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। গবেষক ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য একটি তথ্যভিত্তিক আর্কাইভও সংরক্ষণ করা হয়েছে।