
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জট খুলতে আরও কিছুটা সময় নিচ্ছে পুলিশ। আলোচিত এই হত্যা মামলার অধিকতর বা সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৮ জুন নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন বিচারক।
আজ বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বনির্ধারিত দিন ধার্য ছিল। তবে বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন পেশের জন্য নতুন এই তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতকারী ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
নৃশংস এই হামলার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া হাদিকে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাদির মৃত্যুর পর, গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মূল মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (খুন বা হত্যা) সংযোজন করার আইনি আদেশ দেন।
পরবর্তীতে গত ৬ জানুয়ারি ডিবির (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিদর্শক ও মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ ১৭ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথম চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
তবে ডিবির দেওয়া সেই প্রথম চার্জশিটের ওপর চরম অসন্তোষ ও অনাস্থা প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে একটি ‘নারাজি’ আবেদন জমা দেন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। বিজ্ঞ আদালত বাদীর সেই নারাজি আবেদনটি আমলে নিয়ে মামলাটির জট খুলতে এবং নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে তা সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ডিবির দেওয়া আগের সেই বিতর্কিত চার্জশিটে যে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন এবং বাকি ৬ জন আসামি এখনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক রয়েছেন।