
নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় বর্তমান সরকার। দেশের যুবসমাজকে যোগ্য করে গড়ে তুলে তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালন ও সমাজ সংস্কারের দায়িত্ব অর্পণ করার মাধ্যমেই দেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ বুধবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে নবগঠিত যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি দেশের চলমান উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে যুবদলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখার জোর আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ জিয়া উদ্যানে সমবেত হন। পরে বিএনপি মহাসচিবকে সাথে নিয়ে তাঁরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে দেশের প্রয়াত এই দুই নেতার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
উক্ত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যুবকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) ও মাদক চোরাচালান বন্ধ করাই এখন বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জাতীয় স্বার্থ ও সুরক্ষার খাতিরে যেকোনো মূল্যে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "যুবসমাজ যাতে বিপথে পরিচালিত না হয় এবং তাদের নৈতিক অধঃপতন না ঘটে, সেজন্য দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে রক্ষা করতে সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধে কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।"
যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দও দেশের তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে বর্তমান ও আগামীর সকল চ্যালেঞ্জ সাহসিকতার সাথে মোকাবিলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক পথচলার এই ঐতিহাসিক দিনে যুবদলের সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য—তরুণদের মাঝে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো, কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা, সমাজকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করা এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।
উক্ত মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুবদলের নবগঠিত কমিটির বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।