
টানা বর্ষণ আর অকাল বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বর্তমান অবস্থা এবং তাদের পুনর্বাসনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আজ সচিবালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
সচিবালয়ে জরুরি বৈঠক
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক মোল্লা সংবাদমাধ্যমকে এই বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত শুনবেন এবং জরুরি সহায়তা প্রদান নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ‘সাহসী’ পদক্ষেপ
এর আগে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ফজলুর রহমান জানান, দুর্যোগের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে নিজ এলাকায় গিয়ে কৃষকদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ত্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তার মতে ‘সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’।"
ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র
হাওরাঞ্চলের এবারের ক্ষয়ক্ষতিকে অতীতের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়া এক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি জানান, শুধু পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যা নয়, লাগাতার বৃষ্টির কারণেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে উজান ও ভাটি—উভয় অঞ্চলেই সমানভাবে পানি প্রবেশ করেছে।
নিজের নির্বাচনী এলাকার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মতো দুর্গম হাওর এলাকার মোট ২৪টি ইউনিয়নই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি এসব এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে কৃষকদের দুর্দশা পর্যবেক্ষণ করেছেন। আজকের বৈঠকে এই সামগ্রিক চিত্র তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করবেন।