
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে।
ভারত সরকার এ সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও বিশেষ আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ে। সেই দূরত্ব কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনভাবে জোরদার করতে চায় দিল্লি। এ কারণে সফরটিকে স্মরণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ করতে উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, সফরকালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় পানি বণ্টন, জ্বালানি ও অন্যান্য সহযোগিতা ইস্যু আলোচনায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার বৈঠকে সফরের সম্ভাব্য এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও মতবিনিময় হয়। ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে শুভেচ্ছা সফরে দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তাঁর সফরে গঙ্গার পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ ঘোষণা করেনি, তবে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।