
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাব খাটানো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিসিবিতে “বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি” গঠন করা হয়নি; বরং তদন্ত ও ইনকোয়ারির ভিত্তিতেই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টাদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিষয়টি তদন্ত করে এবং সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, “এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি। তদন্ত হয়েছে, যাচাই হয়েছে, তারপরই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
এর আগে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাবের ওপর আপত্তি জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিকে একই অধিবেশনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদ। নতুনভাবে পাস হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-এ অধ্যাদেশের মূল বিষয়বস্তুর কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিল-সংক্রান্ত তুলনামূলক শিট সংসদ সদস্যদের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে দেওয়া হয়েছে, ফলে তা ভালোভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি স্পর্শকাতর আইন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর নির্ধারিত সময় রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যে আপত্তি না আসায় বিলের এ পর্যায়ে আর আপত্তি গ্রহণের সুযোগ নেই।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।