
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘দলীয়’ বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রিন্সটন বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিধারী অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নিয়োগ পান। অথচ বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এমন ব্যক্তিরাও নিয়োগ পেয়েছেন, যাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলোচনায় তিনি গভর্নর পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গভর্নর পদ থেকে আহসান মনসুর-কে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমান-কে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
গত ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনেও পরিবর্তন আসে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে বাস্তবে রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদে আলোচনায় মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও কর্মসংস্থান ইস্যুতেও সরব ছিলেন বিভিন্ন দলের সদস্যরা। চাঁদপুর-২ আসনের সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মূল্যস্ফীতিকে বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরেন এবং অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর প্রভাবের সমালোচনা করেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ সব পক্ষের আস্থার প্রতীক হওয়া উচিত।
এছাড়া অন্যান্য সদস্যরাও অর্থপাচার, রাজনৈতিক নিপীড়ন, গণভোট, তেল সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।