
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি ধীরে ধীরে তোলা হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেনের সাহায্যে বাসটির সামনের অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে পানি থেকে উপরে তুলে আনা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদীর পানির নিচ থেকে বাসের সামনের অংশ বের করার সময় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করতে দেখা গেছে।
বাসের দরজা ভেঙে গেছে। ভেতর থেকে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ নানা ধরনের ব্যাগ ভেসে উঠেছে। উদ্ধার কাজে সহযোগিতার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পদ্মার তীরে ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও জামাই কাজী সাইফ আহমেদের খোঁজে এসেছেন রোকন। তিনি বলেন, "আমার বন্ধুর ছোট বোন ও তার জামাই আজকে সাড়ে ৩ টার বাসে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনে ঢাকায় যাচ্ছিল। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলোদিয়ার পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। আমরা সাড়ে পাঁচটার দিকে সংবাদ পাওয়ার পর দৌলোদিয়া ঘাটে এসেছি। কিন্তু আমার ছোট বোন ও তার জামাইয়ের এখনও সন্ধান পাইনি। তাদের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি।"
শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, "রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে সন্তান, মেয়ে সন্তান, ভাগ্নি ও ভাগ্নির ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও আমার সাত বছরের ছেলে সন্তান ও এগারো বছর বয়সের ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা আসলেও এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করেনি। আমার ছেলে ও ভাগ্নেতো আর নেই, এখন তাদের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার টাকার দরকার নেই, আমার সন্তানের লাশটা তারা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার আর কিচ্ছু লাগবে না, আমার সব শেষ।"
নবীজ উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তি তার দুই নাতির জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার নাতি ও নাতনি বাসের মধ্যে ছিল। তার জন্য অপেক্ষা করছি। আল্লাহ আমার দুইটারে ফিরিয়ে দাও।"