
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ৪টি লার্জ পেট্রোল ক্রাফট (এলপিসি) ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলেন, এই ক্রয়প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদের অন্যতম নায়ক হিসেবে পরিচিত জেনারেল তারিক সিদ্দিকীর ‘কালো থাবা’ যুক্ত রয়েছে, যা জাতীয় স্বার্থের জন্য উদ্বেগজনক।
সূত্র জানায়, ডিজিডিপি ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর টেন্ডার নং: 06.06.0000.241.07.178.2025-এর মাধ্যমে ৪টি এলপিসি কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। জমাদানের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৬ জানুয়ারি ২০২৬। অভিযোগকারীরা বলছেন, টেন্ডারের সাবমিশন সময় এমনভাবে রাখা হয়েছে, যখন বিশ্বজুড়ে ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কম সক্রিয় থাকে। এর ফলে সম্ভাব্য বিদেশি বা নতুন বিডারদের জন্য প্রাইস কোটেশন সংগ্রহ, অথরাইজেশন লেটার তৈরি ও টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন চূড়ান্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিযোগকারীরা আরও উল্লেখ করেছেন, জমাদানের সময় বাড়ানো হয়নি। এর কারণে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে গেছে এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, টেন্ডারটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারিক সিদ্দিকীর কোম্পানি ‘প্রতীক ইন্টারন্যাশনাল’-কে টার্গেট করে সাজানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ও ওই প্রতিষ্ঠান নৌবাহিনীর এলপিসি, পেট্রোল ক্রাফট, করভেট ও সাবমেরিন সরবরাহে যুক্ত ছিল।
তারা মনে করেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এছাড়া যারা টেন্ডার শিডিউল নির্ধারণ, স্পেসিফিকেশন পরিবর্তন, উৎস অনুমোদন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ‘বিশেষ সুবিধা’ নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।